Nalanda University History in BengaliNalanda University History in Bengali

Nalanda University History in Bengali: নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা, কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বব্যাপী প্রভাব, বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা এবং এর পতন, আক্রমণের কারণ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা) Nalanda University (Establishment of University, Structure, Attacks on Nalanda University and its Decline, Reasons for the Attacks on Nalanda University, Global Influence of Nalanda University, Re-establishment of Nalanda University) 

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাচীন ভারতের একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র, বিশ্বজুড়ে তার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য বিখ্যাত। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি 5ম শতাব্দীতে গুপ্ত বংশের রাজা কুমারগুপ্ত প্রথম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধধর্ম, বিজ্ঞান, গণিত, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করে। এর নাম “নালন্দা” দুটি শব্দ “নালম” (জ্ঞান) এবং “দা” (দাতা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ “জ্ঞান দাতা”। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্র ও পণ্ডিতরা আসতেন। “ধর্মগঞ্জ” নামক এর গ্রন্থাগারে লক্ষাধিক পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থ রয়েছে। নালন্দার শিক্ষাব্যবস্থা, শৃঙ্খলা এবং পণ্ডিতদের গুণমান বিশ্বব্যাপী এটি একটি অতুলনীয় খ্যাতি অর্জন করেছিল। যাইহোক, 12 শতকে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণের কারণে এটি হ্রাস পায়। আজ, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যার ফলে এর প্রাচীন গৌরব পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। এই প্রয়াস শুধুমাত্র ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য নয়, আধুনিক শিক্ষার সাথে সাথে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানের প্রচারের জন্যও।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস | Nalanda University History In Bengali

বিষয়বর্ণনা
প্রতিষ্ঠা5 ম শতাব্দী
প্রতিষ্ঠিত দ্বারাকুমারগুপ্ত প্রথম (গুপ্ত রাজবংশ)
স্থাননালন্দা, বিহার, ভারত
প্রধান ভাষাসংস্কৃত, পালি
প্রধান বিষয়বৌদ্ধ ধর্ম, ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতিষ, ভাস্কর্য
লাইব্রেরিধরমগঞ্জ (রত্নসাগর, রত্নদাধি, রত্নরঞ্জক)
ছাত্রপ্রায় 10,000 থেকে 12,000
শিক্ষকপ্রায় 2,000
বিখ্যাত পণ্ডিতহিউয়েন সাং, ইটসিং
প্রধান আক্রমণ1193 সালে বখতিয়ার খিলজি দ্বারা
পতনের কারণআক্রমণ
পুনরায় ইনস্টলেশন2010 সালে ঘোষিত, 2014 সালে উদ্বোধন করা হয়
এখন যেখানে আছেরাজগীর, বিহার, ভারত
বর্তমান উদ্দেশ্যআধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রচার করা।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (Establishment of Nalanda University)

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় 5ম শতাব্দীতে গুপ্ত রাজবংশের রাজা কুমারগুপ্ত প্রথম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিহার রাজ্যে অবস্থিত ছিল এবং বৌদ্ধধর্মের অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানের জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নালন্দা নামটি “নালম” (জ্ঞান) এবং “দা” (দাতা) থেকে এসেছে, যার অর্থ “জ্ঞান দাতা”। এর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা। শুধু ভারত নয়, চীন, কোরিয়া, জাপান, তিব্বত, মঙ্গোলিয়া, তুরস্ক ও শ্রীলঙ্কা থেকেও শিক্ষার্থীরা নালন্দায় শিক্ষা গ্রহণ করতে আসত। এই বিশ্ববিদ্যালয় তার উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চমৎকার পণ্ডিতদের জন্য বিখ্যাত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার “ধর্মগঞ্জ”-এ লক্ষাধিক পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থ রয়েছে, যা বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। নালন্দার শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ভাস্কর্যের মতো বিষয়গুলির অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা ভারতীয় উপমহাদেশকে শিক্ষা ও জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল একটি সুবিশাল এবং কাঠামোগত কমপ্লেক্স যেখানে অনেক মঠ, মন্দির, গ্রন্থাগার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো আটটি বিশাল ভবন নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি ভবনে একটি বড় উঠান এবং অনেক কক্ষ ছিল। মোট 3000 এরও বেশি ছাত্র এবং 2000 শিক্ষক এখানে বাস করত। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য বাসস্থান, অধ্যয়নের জন্য শ্রেণীকক্ষ এবং ধ্যান করার জন্য মন্দির ছিল। সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থাগারটি ছিল “ধর্মগঞ্জ”, যা তিনটি বিশাল ভবনে বিভক্ত ছিল – রত্নসাগর, রত্নদধি এবং রতরঞ্জক। এই ভবনগুলিতে লক্ষ লক্ষ পান্ডুলিপি এবং পাঠ্য সংরক্ষিত ছিল, যাতে বৌদ্ধধর্ম, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, গণিত এবং অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার ছিল বিশাল এবং এর চারপাশে সুন্দর বাগান ও পুকুর ছিল। নালন্দার কাঠামো এবং এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষ এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করেছে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বব্যাপী প্রভাব (Global impact of Nalanda University)

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি সমগ্র এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। চীন, কোরিয়া, জাপান, তিব্বত, মঙ্গোলিয়া, তুরস্ক ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসত। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এখানে শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং নালন্দা সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লিখেছেন। হিউয়েন সাং-এর মতে, নালন্দায় উচ্চমানের পড়াশোনা ছিল এবং এখানকার পণ্ডিতরা অত্যন্ত বিদ্বান ও জ্ঞানী ছিলেন। তিব্বতের রাজাও তার দেশ থেকে ছাত্রদের নালন্দায় শিক্ষার জন্য পাঠান। এখানকার পণ্ডিতরা বৌদ্ধধর্ম ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের জ্ঞান বিনিময় করেন এবং তা তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং তা ছড়িয়ে দেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেয় এবং এটিকে একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর বৈশ্বিক খ্যাতি এটি শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে এবং এটি ইতিহাসে একটি অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্মরণীয়।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা এবং এর পতন

12 শতকে, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বখতিয়ার খিলজি দ্বারা আক্রমণ করেছিল, যা এটির পতনের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। 1193 সালে খিলজি নালন্দা আক্রমণ করেন এবং এর গ্রন্থাগার ও মঠ পুড়িয়ে দেন। এই হামলায় হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থ ধ্বংস করা হয়। খিলজির লক্ষ্য ছিল বৌদ্ধধর্ম ও তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে নির্মূল করা। এই হামলার পর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আর কখনও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এই আক্রমণে নালন্দার পণ্ডিত ও ছাত্রদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক শিক্ষককে হত্যা করা হয় এবং অনেককে বন্দী করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বখতিয়ার খিলজির আক্রমণ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটায় এবং এটি শিক্ষার কেন্দ্র হিসাবে তার স্থান হারায়। এই আক্রমণের প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে নালন্দা কখনও পুনর্নির্মাণ করা যায়নি এবং এটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। নালন্দার পতন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সংস্কৃতির জন্য একটি বড় ক্ষতি ছিল। এই আক্রমণটি কেবল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, ভারতীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও একটি বড় আঘাত ছিল। এই আক্রমণ চিরতরে ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষা ও জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হারিয়েছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস 2024: তারিখ, তাৎপর্য, কার্যক্রম

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য হামলা

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শুধু বখতিয়ার খিলজির আক্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়; এর আগে ও পরে বহুবার হামলা হয়েছে, যা এই মহান শিক্ষা কেন্দ্রের ক্ষতি করেছে।

প্রাথমিক আক্রমণ

হুন শাসক মিহিরকুলের সময় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বড় আক্রমণ হয়েছিল। ষষ্ঠ শতাব্দীর একজন নিষ্ঠুর শাসক মিহিরাকুলা ভারত আক্রমণ করেন এবং অনেক বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেন। এসময় নালন্দাও তার ক্রোধের শিকার হন। যাইহোক, তা সত্ত্বেও, নালন্দা শীঘ্রই পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার আগের গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সফল হয়।

সপ্তম শতাব্দীর আক্রমণ

সপ্তম শতাব্দীতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি বড় আক্রমণ ঘটে। এই সময়ে, ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল এবং ছোট ছোট রাজ্যগুলি নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছিল। এই সময়কালে অনেক আক্রমণকারী নালন্দা আক্রমণ করে এবং এর সম্পদ লুট করে। তবে তৎকালীন শাসক ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এর সুনাম অটুট থাকে।

10 তম এবং 11 তম শতাব্দীর আক্রমণ

10 ম এবং 11 শতকের সময়, ভারত বেশ কয়েকটি মুসলিম আক্রমণকারী দ্বারা আক্রমণ করেছিল। এর মধ্যে কয়েকজন হানাদার নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলা চালায়। এই আক্রমণগুলির সময়, নালন্দার গ্রন্থাগার এবং মঠগুলির যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। যাইহোক, এই আক্রমণগুলির পরেও, নালন্দার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এর প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠিত হয় এবং এটি আবার একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়।

বখতিয়ার খিলজির আক্রমণ

12 শতকে বখতিয়ার খিলজির দ্বারা সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণ হয়েছিল। 1193 সালে খিলজি নালন্দা আক্রমণ করেন এবং এর গ্রন্থাগার ও মঠ পুড়িয়ে দেন। এই হামলায় হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থ ধ্বংস করা হয়। এই আক্রমণের ফলে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে যায় এবং শিক্ষাকেন্দ্রটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার কারণ

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার মূল কারণ ছিল বখতিয়ার খিলজির ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। খিলজির লক্ষ্য ছিল বৌদ্ধধর্ম ও তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে নির্মূল করা। তিনি বৌদ্ধধর্মের প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষী ছিলেন এবং নালন্দার মতো মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র আক্রমণ করে তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তখন বৌদ্ধ ধর্মের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল এবং এটিকে ধ্বংস করে খিলজি তার শক্তি ও ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তদুপরি, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি এবং এর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি এবং পাঠ্যগুলিও আক্রমণের একটি কারণ ছিল। খিলজি নালন্দার সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার পুড়িয়ে এবং পণ্ডিতদের হত্যা করে বৌদ্ধধর্ম ও এর শিক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি সাধন করেন। এই আক্রমণের উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয়ই ছিল না, রাজনৈতিকও ছিল কারণ খিলজি তার শাসনকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।

Re-establishment of Nalanda University

ভারত সরকার 21 শতকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। 2006 সালে, ভারতীয় সংসদ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস করে, যার অধীনে এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। 2010 সালে, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় এবং এটি 2014 সালে উদ্বোধন করা হয়।

Re-establishment of Nalanda University

নিউ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিহারের রাজগীরে অবস্থিত এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা নয় বরং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে এটিকে একীভূত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম বহু-বিষয়ক এবং এতে ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার (Re-establishment of Nalanda University) প্রচেষ্টায় বিভিন্ন দেশের সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক দেশ এই প্রকল্পে অবদান রেখেছে এবং এটিকে একটি বৈশ্বিক শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করেছে। এর ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সংস্থান রয়েছে যা ছাত্র এবং পণ্ডিতদের শিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ মানের অনুসরণ করতে সহায়তা করে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা নয় বরং নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করা। প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং জ্ঞানকে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিশ্রিত করে, যা শিক্ষার্থীদের একটি বিস্তৃত এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস (Nalanda University History in Bengali) ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর উত্থান-পতনের গল্প আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে জ্ঞান ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের অবদান কতটা ব্যাপক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। নালন্দা ইউনিভার্সিটি শুধুমাত্র ভারতে নয়, সারা বিশ্বে শিক্ষা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়েছে।

এর পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতীক যে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে আজও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন একটি বৈশ্বিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও পণ্ডিতদের আকর্ষণ করছে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠার তাৎপর্য শুধুমাত্র ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করার মধ্যেই নয় বরং একটি নতুন প্রজন্মকে সর্বোচ্চ স্তরের শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে। এই ইনস্টিটিউটটি আধুনিক এবং প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গম প্রদান করে, যা শিক্ষার্থীদের একটি বিস্তৃত পরিপ্রেক্ষিত এবং গভীর জ্ঞান প্রদান করে।

এইভাবে, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Re-establishment of Nalanda University) ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের গৌরবময় ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করে। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প আমাদের শিক্ষা দেয় যে শিক্ষা এবং জ্ঞানের কোন সীমা নেই এবং মানবতার বিকাশ ও অগ্রগতির জন্য সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ হবে।


iNFO বাংলা দেখার জন্য ধন্যবাদ

By Tanmoy

আমি তন্ময় ঘোরই, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গের একজন ব্লগার এবং ইউটিউবার। আমি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্লগিং করছি, এবং আমি বিভিন্ন বিষয়ে সহায়ক তথ্য শেয়ার করতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *